ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জরুরি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি, জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলকে ‘স্মার্ট কৃষি অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই চেয়ারম্যান তুহিন দীর্ঘ ১৯বছর পর যৌথ বাহিনীর জব্দ করার বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু নগরীতে ৫’জন মাদক কারবারি-সহ গ্রেফতার ১৮ রাজশাহী নগরীতে কিছুক্ষণ ভারী বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ১৫৫ বছরে রাজশাহী এসোসিয়েশন: ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান রাবি শিক্ষার্থীদের রেল অবরোধ সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ প্রেমে বিচ্ছেদের পর অভিনেতাকে জুতাপেটা করলেন অভিনেত্রী! ক্লাস শেষে ছাত্রকে নিজ কক্ষে নিয়ে যেতেন মাদরাসার শিক্ষক স্বামী প্রবাসে, প্রেমিকের সঙ্গে যে কাণ্ড ঘটালেন তরুণী! ফিফার সাহায্যে ফাইনালে মেসিরা! আবার বিতর্ক বাড়িয়ে দিলেন রোনাল্ডো বাঘায় শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার বিশ্বকাপ জিতে গোলপোস্টের জাল কেটে নিয়েছেন স্পেনের ফুটবলারেরা! জামালপুরে প্রেমিকের বাড়িতে ২ নারীর অনশন রাস্তার জায়গা দখলের অভিযোগে আরডিএ চেয়ারম্যানের সরেজমিন পরিদর্শন নগরীর উপশহরে ট্যাপেন্টাডল সেবনের দায়ে যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড নাটোরের সিংড়ায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা প্রতিবন্ধী যুবতীকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাইরে যাওয়া স্বামীর বাড়িতে ঢুকে নারীকে ধর্ষণ ফরিদপুরে গভীর রাতে ইমামের স্পর্শকাতর অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

তানোরে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প

  • আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৫ ০১:৩৬:০০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৫ ০১:৩৬:০০ অপরাহ্ন
তানোরে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প তানোরে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প
বাঁশ বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বাঁশ-বেতের সামগ্রী ছাড়া একটা সময় বাঙলা বর্ষবরণ উদযাপন হতো না। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় বেত বনের ঐতিহ্য ছিল গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির রূপ। এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে তৈরি হতো বাঁশ ও বেতের পণ্য। অনেকে পরিবার আবার এই শিল্প পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। গ্রাম বাংলার অনেক দরিদ্র পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো এই শিল্প। কিন্তু বর্তমানে জনজীবন থেকে সেইসব হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এখন সেই শিল্পের জায়গায় দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। তাই বলা যেতে পারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে শিল্পের ঠিকানা এখন প্রায় জাদুঘরে।

এক সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্লিতে বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙারি, টুকরি, চালনি, খলই, পলই, ঝুড়ি, খাচি, গুমাইসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। এ সকল পণ্য তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজে সামিল হতো। হাট বাজারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে ফেরিওয়ালারা এসব বেত ও বাঁশ শিল্প তৈরি পণ্য বিক্রিয় করতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পের মূল উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। যার কারণে এই শিল্পের কারিগররা তাদের পেশা ধরে রাখতে পারছে না, অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।এতে বিলুপ্ত হতে বসেছে গ্রামবাংলার বাঁশ ও বেত শিল্প। এ কারণে গ্রামের হাটবাজারে বাঁশ ও বেতের তৈরি শিল্প আগের মতো আর চোখে পড়ে না। এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

সঠিক সময়ে রোপণ, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার অভাবে  উপজেলায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে বাঁশঝাড়। ফলে এলাকা থেকে বাঁশ-বেত নির্ভর শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, একসময় গ্রামের হাটবাজারে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প বিক্রি হতো। যেমন কুলা, ডালা, টুপরি, কুড়ি চালুন, তালাই টেমাই, টোপা, ঝাঁটা হোঁচা, মই, মাছ ধরার জোলঙ্গা, পলো, দারকি, ধীল, চাঁই, বানা ও বিভিন্ন শৌখিন খেলনা সামগ্রী। এছাড়া, এলাকায় কাঁচা ঘর তৈরিতে বাঁশের খুঁটি, বেড়া, ঘরের দরজা প্রভৃতি উপকরণ ব্যবহৃত হতো।

বাঁশের তৈরি শিল্প বিক্রেতা আব্দুর আলিম (৫৫) বলেন, ‘আগে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র নিজেরা বাড়িতে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেছি, তখন লাভ হতো। কিন্তু এখন তেমন লাভ হয় না। রাত-দিন খেটে যা তৈরি করি হাটবাজারে সে তুলনায় বিক্রি নেই। সরকারিভাবে কোনো সাহায্যে সহযোগিতাও পাচ্ছি না। অনেক দুঃখ কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। অভাবের তাড়নায় এপেশার অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন। উপযুক্ত কাজ ও অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা অন্য পেশায় যেতে পারিনি।’

সবুজ দেওয়ান (৪৫) বলেন, ‘এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন অটো ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের গোত্রের দুই-তিনটি পরিবার ছাড়া সবাই পেশা পরিবর্তন করেছেন। একসময় পল্লী এলাকায় বাঁশ ও বেত ঝাড় থাকায় বাঁশের তৈরি শিল্পের প্রচুর ব্যবহার ছিল। কিন্তু আগের মতো এখন বাঁশঝাড় আর বেত চোখে পড়ে না। দুষ্প্রাপ্যতার কারণে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি নিঃস্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী পরিবারগুলো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর উপশহরে ট্যাপেন্টাডল সেবনের দায়ে যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড

নগরীর উপশহরে ট্যাপেন্টাডল সেবনের দায়ে যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড